Tuesday, May 31, 2011

ওয়ার্ডপ্রেস সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় সিএসএম টুল



প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবন যাত্রার মান আরও গতিশীল ও আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করতে প্রায় সবকিছুই অনলাইন নির্ভর হচ্ছে। আগে আমাদের জীবনের ছোট বড় ঘটনা, হাসি কান্না , সফলতা ব্যর্থতা শেয়ার করতাম আমাদের আশেপাশের গুটি কয়েক মানুষের সাথে। কিন্তু এখন আমরা এটা করতে পারি আরও অনেকের সাথে। মুহূর্তের মধ্যে আমরা আমাদের অনুভূতি শেয়ার করতে পারি সারা পৃথিবীর মানুষের সাথে। যে আমার পরিচিত নয়, যাকে আমি কোন দিন দেখিনি, যার সাথে আমার ভাষার কোন মিল নেই তাকে আপন মনে করে তার সাথে আমার অনুভুতিটা শেয়ার করতে পারি নিঃসংকোচে। এই কাজটি করা যায় সহজে করা যায় ব্লগিং এর মাধ্যমে। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে ব্লগের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি অনেক পেয়েছে। ব্লগার ও ব্লগিং নিয়ে অনেক আলোচনাও হচ্ছে। এত কিছুর পরও ব্লগার ও ব্লগিং বিষয়টা আমাদের অনেকের কাছে অজানাই থেকে গেছে। আপনি কি জানেন যিনি ব্লগে লিখেন তাকে ব্লগার বলা হয়। আর যেখানে লিখেন তাকে ব্লগ এবং ব্লগার ব্লগে যা কিছু করেন তাই ব্লগিং। আপনি যদি কোন কিছু লিখে সবার সাথে শেয়ার করতে চান তবে ব্লগিং এর মাধ্যমে খুব সহজেই সবার কাছে পৌঁছতে পারবেন। ব্লগিং করার জন্যে বিভিন্ন ধরনের টুলস্‌ ব্যবহার করা হয়। যা ব্লগিংকে আরও সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে সহজ ভাবে উপস্থাপন করা যায়। ব্লগিং করার জন্যে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওপেনসোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সংক্ষেপে সিএসএম টুল হলো ওয়ার্ডপ্রেস। এখানে ওয়ার্ডপ্রেস এর উপর ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হবে। যা আপনাকে একটি সুন্দর ব্লগ তৈরিতে সাহায্য করবে বলে আশারাখি। এবার জেনে নিই ওয়ার্ডপ্রেস কি এবং কেন?
ওয়ার্ডপ্রেস কি?
ওয়ার্ডপ্রেস একটি সিএসএম টুল যা সবর্প্রথম ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রথম দিকে এর তেমন ব্যবহার ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে এর ব্যবহার ও ডেভলপমেন্ট অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি একটি সেরা ব্লগিং টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একটি ওপেনসোর্স প্রজেক্ট হওয়ায় হাজার হাজার পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে এর উপর কাজ করছেন। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস এর ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই এই টুলটি ডাউনলোড করতে পারবেন এর জন্য আপনাকে কোন মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। উপরের আলোচনায় অনেকবার উল্লেখ করা হয়েছে সিএসএম বা কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর কথা। হয়তো এটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি। সহজ কথায় বলতে গেলে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো একটি টুল যেখানে ওয়েবসাইট বা ব্লগের কনটেন্টকে অর্থ্যাৎ টেক্সট, ছবি, গান, ভিডিও ইত্যাদি ডকুমেন্ট ও ফাইলের যথাযোগ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়। ব্যবস্থাপনা বলতে কনটেন্ট গুলোর নিজস্ব বিষয়বস্তু অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে সাজানো বোঝায়।
ওয়ার্ডপ্রেস কেন?
বিভিন্ন সুবিধার কারণে ওয়ার্ডপ্রেস সিএসএম টুলটি ব্যবহার করা হয়। এর প্রধান সুবিধা হলো আপনি যদি একজন সাধারন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন এবং আপনার যদি কোন ওয়েব প্রোগ্রামিং বা কোডিং এর সামান্যতম জ্ঞান না থাকে তবুও ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারবেন। ইচ্ছা করলেই আপনি এই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা ওয়েবসাইট এবং ব্লগের কনটেন্ট গুলোকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করতে ও সাজাতে পারবেন। আলাদা আলাদা কাজের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস এর বিভিন্ন প্লাগইন আছে। এদের বেশিরভাগই বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায় এবং ইনস্টল করাও সহজ। আপনি যদি গুগল অ্যাডসেন্স সহ অন্যান্য অনলাইন অ্যাডভার্টাইজিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনলাইন থেকে উপার্জন করতে চান তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস হবে আপনার জন্য উৎকৃষ্ট প্ল্যাটফর্ম। ওয়ার্ডপ্রেস এ শপিং কার্ট সিস্টেম যুক্ত করে ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। সেখানে আপনি অনলাইনে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেস এ তৈরিকৃত সাইট সহজে সার্চ ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত করা যায়। এজন্য এধরনের সাইটে বেশি পরিমানে ভিজিটর পাওয়া যায়। এসকল বৈশিষ্ট্যের কারণে ওয়ার্ডপ্রেস টুলটিকে সবাই পছন্দ করে থাকেন। সে জন্য এটি একটি আদর্শ ব্লগিং টুল হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।
ওয়ার্ডপ্রেস-এ যে ধরণের সাইট তৈরি করা যাবে ঃ
ওয়ার্ডপ্রেস-এ বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যাবে। যেমনঃ-
1. কর্পোরেট ওয়েবসাইট বা কর্পোরেট পোর্টাল।
2. অনলাইন ম্যাগাজিন এবং প্রকাশনা।
3. ই-কমার্স সাইট ও অনলাইন রিজার্ভেশন ওয়েবসাইট সাইট
4. সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাইট।
5. নন প্রফিট ও অর্গানাইজেন সাইট
6. কমিউনিটি বেজড ওয়েব পোর্টাল
7. স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট।
8. সামাজিক যোগাযোগ সাইট।
9. অনলাইট শপিং সাইট।
10. ব্যক্তিগত ব্লগিং সাইট সহ নানা ধরনের ওয়েবসাইট।
ওয়ার্ডপ্রেস এর সুবিধাঃ
অন্যান্য সিএসএম এর চাইতে ওয়ার্ডপ্রেস এ অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। এখানে বেশ কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করা হলো-
1. ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে যে কোন ধরনের উন্নত মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
2. অনলাইনে উপার্জনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডপ্রেস প্রয়োজনীয় সুবিধা গুলো দিয়ে থাকে।
3. গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের সবচেয়ে সুবিধানক প্ল্যাটফর্ম হলো ওয়ার্ডপ্রেস। কারণ ওয়ার্ডপ্রেস- এ অ্যাডসেন্স ব্যবহারের জন্য প্লাগইন আছে। এটি দিয়ে সাইটের যেকোন জায়গায় অ্যাড বসানো যায়।
4. শপিংকার্ট সিস্টেম ওয়ার্ডপ্রেস-এ যুক্ত করা যায়।
5. ইমেজ বা ফটো, ভিডিও গ্যালারি যুক্ত করে সাইটকে সুন্দর ও আকর্ষনীয় করা যায়।
6. সর্বোপরি ওয়ার্ডপ্রেসে আমাদের মাতৃভাষায় ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।
ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশনের জন্য যা যা প্রয়োজন হবেঃ
1. পিএইপি ভার্সন ৪.৩ বা এর চেয়ে বেশি।
2. মাই এসকিউএল ভার্সন ৪.১.২ বা এর চেয়ে বেশি।
3. এপাচি ওয়েব সার্ভার।
4. ওয়ার্ডপ্রেস সিএসএম টুল।
5. হোস্টিং
ধারাবাহিক আলোচনায় ওয়ার্ডপ্রেস এর একেবারে গোড়া থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে একটি সম্পূর্ণ সাইট তৈরির প্রক্রিয়া দেখানো হবে। সবাই ভাল এবং সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।